বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় মোসলেম উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্রীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করার চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফিজুর রহমান ও ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও মোসলেম উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হিন্দু ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকসহ অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন। এই বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভরত কয়েকজন হিন্দু ছাত্রীকে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিজাব পরতে বাধ্য করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করতে শোনা গেছে।
ভিডিওটি মোসলেম উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বলে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় ওই স্কুলে উপস্থিত ছিলাম। সেই সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভায়ও উপস্থিত ছিলাম। এলাকার পরিস্থিতি এখন ভালো রয়েছে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল করিম বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সেখানে হিজাব পরতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী ছাত্রীরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘বুধবার স্কুলের উদ্ভূত পরিস্থিতি জানার পর আমি ওই স্কুলে ছুটে যাই। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে বসেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও ধর্ম বিষয়ের শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এরপর সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত হয়।’
হিন্দু শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে গোবিন্দ দাস নামে এক অভিভাবক বলেন, আগে স্কুলে গীতা পাঠ হতো, এখন হচ্ছে না। তা ছাড়া প্রধান শিক্ষক হিন্দু-মুসলমান সবাইকে হিজাব পরতে বলায় প্রতিবাদ করে হিন্দু শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় কিছু ছাত্র প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। আবার কিছু ছাত্র চায় না।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার জানায়, আমাদের মারধর করা হয়েছে। যারা মেরেছে, তারা অপরিচিত। আমরা চিনি না।
অ্যাসেমব্লিতে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আবিদা সুলতানা জানায়, রোদের কারণে গীতা পাঠ করানো হয় না। শুধু কোরআন পাঠ হয়। আমরা মনে করি, এটা বৈষম্য। প্রধান শিক্ষক স্কার্ফ পরতে বলেছেন। তবে অসুবিধা হলে পরার দরকার নেই, তাও বলেছেন।
মৌলভি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্কার্ফ হলো আমাদের স্কুলের ড্রেসের অংশ। এজন্য আমি বলছি সবাই স্কার্ফ পরে আসবা। ওটা হিজাব না। কিন্তু আমি তো হিন্দু বাচ্চাদের ক্লাস নিই না। আমি ইসলাম ধর্ম ক্লাস নিই। তারা কী অভিযোগ নিয়ে এলো, আমি বুঝতে পারছি না। আমার অপরাধটা কী?
প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমাদের স্কুল ড্রেস অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা স্কার্ফ পরে আসে না। বুধবার আমরা তাদের স্কার্ফ পরে আসতে বলেছিলাম। এই বিষয়টাকে এলাকায় রংচং দিয়ে হিজাব বলে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগে আমাদের স্কুলে কোরআন ও গীতা পাঠ দুটোই হতো। বুধবার গরমের কারণে অ্যাসেমব্লিতে শুধু কোরআন তিলাওয়াত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বইয়ে গীতা পাঠের কোনো অপশন নেই। যারা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তারাও বলেছেন, শুধু কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে অ্যাসেমব্লি হবে। অন্য যে অনুষ্ঠান আছে, তাতে গীতা পাঠও হবে কোরআন তিলাওয়াতও হবে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply